অর্থ-বাণিজ্যমিল্কভিটাশাহজাদপুর

দৈনিক উৎপন্ন সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ বিক্রিতে হিমশিম


করোনায় শাহজাদপুরের গো-খামারিরা মহাবিপাকে

দুগ্ধশিল্পের রাজধানী ও দেশের নিউজিল্যান্ড খ্যাত জনপদ শাহজাদপুর উপজেলাসহ বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ায় দৈনিক উৎপন্ন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার গরুর দুধ। এ অঞ্চলে দৈনিক উৎপন্ন বিপুল পরিমান গরুর দুধ দেশে দুধের চাহিদা পূরণ করে আসছে। কিন্তু করোনার ক্রান্তিকালে শাহজাদপুরসহ বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ায় দৈনিক উৎপন্ন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধের বিপনন নিয়ে গো-খামারিরা মহাবিপাকে পড়েছে।

মিল্কভিটাসহ বেসরকারি ১৪টি ডেইরি প্রজেক্টের কুলিং সেন্টারের মাধ্যমে উৎপন্ন এসব দুধ সংগ্রহ করা হলেও সারাদেশে দুধের ভোক্তাদের চাহিদা বহুলাংশে কমে যাওয়ায় বাজারে প্রক্রিয়াজাতকরণ নানা দুগ্ধজাত পন্যসামগ্রীর বেচাবিক্রিও কমে গেছে। ফলে মিল্কভিটা কোটা পদ্ধতিতে ও অন্যান্য বেসরকারি ডেইরি প্রজেক্ট তুলনামূলক কম পরিমান দুধ খামারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছে। ফলে শাহজাদপুরসহ বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ার হাজার হাজার গো-খামারিরা তাদের উৎপন্ন দুধের বিপনন নিয়ে প্রতিটি মুহুর্ত চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় কাটাচ্ছে।

তার পরেও ‘মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ’ এর মতোই বন্যার পানিতে বিস্তুর্ণ গো-চারণ ভূমি তলিয়ে যাওয়ায় এলাকায় কাঁচা ঘাসের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুগ্ধ উৎপাদনে খামারিদের বাধ্য হয়ে অপেক্ষাকৃত বেশী খরচে দানাদার খাদ্য ক্রয় করে গবাদীপশুকে খাওয়াতে হচ্ছে। এতে তাদের দুধের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও দুধের দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি না পাওয়ায় খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

গো-খামারিরা জানিয়েছে, শাহজাদপুরসহ বাঘাবাড়ী মিল্কশেড এরিয়ায় দৈনিক উৎপন্ন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ প্রতিদিন খামারিরা মিল্কভিটার আওতাভূক্ত বিভিন্ন প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিঃ এর মাধ্যমে মিল্কভিটার বিভিন্ন কারখানায়, স্থানীয় ঘোষ সম্প্রদায় ও মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াও প্রাণ, আফতাব, এমোমিল্ক, কোলালিটি, আড়ং, আকিজসহ বিভিন্ন ডেইরি প্রজেক্টের কুলিং সেন্টারে সরবরাহ করছে।

পরে কারখানায় শীতলীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তা ঢাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ঢাকাসহ সারাদেশে দুধের ভোক্তাদের চাহিদা ক্রমশ হ্রাস পাওয়ায় বাজারে সরবরাহকৃত দুধ অতীতের তুলনায় কম পরিমানে বিক্রি হচ্ছে। এতে বাধ্য হয়ে মিল্কভিটা কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বেসরকারি ডেইরি প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষও খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের পরিমান কমিয়ে দিয়েছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ‘আপটুডেট রিপোর্ট অনুযায়ী শাহজাদপুর উপজেলায় মোট ২ লাখ ৮৭ হাজার গাভী, ষাঁড় ও বাছুর রয়েছে। কাগজে কলমে গো-সম্পদের এ পরিসংখ্যান থাকলেও বাস্তবে তা সংখ্যায় প্রায় দ্বিগুণ হবে বলে খামারিরা জানিয়েছে। সকাল-বিকাল দু’বেলায় এ অঞ্চলের খামারিরা দৈনিক প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করছে।

ঢাকায় সরবরাহকৃত দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তরলদুধ, গুঁড়োদুধ, ঘি, মাখন, কনডেন্সড মিল্ক, আইসক্রিমসহ নানা দুগ্ধজাত পন্যসামগ্রী প্রস্তুত করে ঢাকাসহ সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালে ঢাকাসহ সারাদেশে এসব দুগ্ধজাত পন্যসামগ্রীর ভোক্তার সংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রক্রিয়াজাত নানা দুগ্ধজাত পন্যসামগ্রী নিয়ে বিপনন ও সরবরাহকারী নানা প্রতিষ্ঠানও পড়েছে বিপাকে। আর এ জন্যই তারা খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের হার কমিয়ে দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ বিষয়ে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিঃ (মিল্কভিটা) এর ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু মুঠোফোনে বলেন, ‘ঢাকাসহ সারাদেশে মিল্কভিটার দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্যের ভোক্তাদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কোটা পদ্ধতিতে সমবায়ী গো-খামারিদের কাছ থেকে তারা দুধ সংগ্রহ করছেন। ভোক্তা চাহিদা স্বাভাবিক হলে কোটা পদ্ধতি তুলে নেয়া হবে।

Related Articles

Back to top button
x
Close
Close
%d bloggers like this: