কবে লন্ডন যাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া?

বেগম খালেদা জিয়া যেকোনো সময়ে লন্ডন যেতে পারেন বলে বিএনপির একাধিক সূত্র এবং পরিবারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাঁরা সরকারের সবুজ সংকেত এর অপেক্ষা করছেন। ইতিমধ্যে লন্ডন যাওয়ার যে প্রস্তুতি, সেই প্রস্তুতিও বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার গ্রহণ করেছেন বলে বাংলা ইনসাইডার-কে জানিয়েছেন পরিবারের একজন সদস্য।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ ৬ মাসের জামিনে বেগম খালেদা জিয়াকে দুই শর্তে মুক্তি দেয়া হয়। এই শর্তগুলো ছিলো যে, তিনি নিজ দায়িত্বে চিকিৎসা করবেন এবং এই সময়ে তাঁর দণ্ড স্থগিত রাখা হবে। বেগম খালেদা জিয়ার প্রকাশ্যে দুই শর্তের বাইরেও গোপনে আরো কিছু শর্ত ছিলো বলে একাধিক রাজনৈতিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আইনগত প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর বেগম জিয়ার পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার করুণা ভিক্ষা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বেগম জিয়ার পরিবার এর দুইজন সদস্য দেখা করে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি চান। প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতার প্রার্থনা করেন। প্রধানমন্ত্রী সহানুভূতিশীল হয়ে নির্বাহী আদেশে ফৌজদারি কার্যবিধির একটি নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের মুক্তির নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যে ৬ মাসের প্রায় তিন মাস অতিক্রান্ত হতে যাচ্ছে।

বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে যখন জামিন দেয়া হয় তখনি উনাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। কারণ তাঁর কিছু চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব নয় এবং এখন জেল থেকে বের হওয়ার তিন মাস পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয়নি। একমাত্র মানসিক প্রশস্তি ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয়নি। তাঁর ডায়বেটিস এখনো অনেক বেশি এবং তাঁর আর্থাইটিস এর ব্যাথাও এখনো রয়েছে।

যদিও বাংলাদেশে তাঁর একটি পছন্দের চিকিৎসক দল তাঁকে নিয়মিত চিকিৎসা দিচ্ছে, কিন্তু তারপরও বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বড় ধরণের উন্নতি হয়নি। বেগম জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য বলেছেন যে, খালেদা জিয়ার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। সেজন্যই তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পায় মুক্ত করা হয়েছে। সেই সময়েই বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু তখন করোনা পরিস্থিতির কারণে আর বাইরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। যেহেতু এখন আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং লন্ডনেও এখন যাওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডনে যাওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আগামী দুই একদিন এর মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি আবেদন করা হতে পারে। প্রথম আবেদনটি হবে যে, তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়া। ইতিমধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দল তাঁরা এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরী করছে যে তাঁর চিকিৎসা কেন দেশে সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত, বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আরো বৃদ্ধি করা। কারণ এই চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি বলে মনে করছেন তাঁর চিকিৎসকরা।

বেগম খালেদা জিয়ার একজন চিকিৎসক বলেছেন যে, এখন খালেদা জিয়াকে কোন বেসরকারি  হাসপাতালে নেয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সবগুলো হাসপাতালে এখন কোভিড রোগী দিয়ে ভরে গেছে। এ পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী বিভিন্ন অসুস্থতায় ভোগা রোগীর জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলো নিরাপদ নয়। এ কারণেই তাঁরা মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে এখন দেশের বাইরে চিকিৎসা দেয়া দরকার। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের অনুমতির উপর। কারণ বেগম খালেদা জিয়া দুটি মামলায় দণ্ডিত এবং উনার দণ্ড মওকুফ করা হয়নি। শুধুমাত্র উনার সাজার মেয়াদ ছয় মাস স্থগিত করা হয়েছে।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে তারা এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকেও এ ধরনের কোন আবেদন করা হয়নি। আবেদন করার পরই সরকার এই বিষয়টি বিবেচনা করবে বা ভেবে দেখবে।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.