এর আগে যে কয়বার ‘বিদায়’ বলতে চেয়েছিলেন মেসি

সবাইকে চমকে দিয়ে এই গ্রীষ্মে বার্সেলোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি। এরপর থেকে তার বিদায় ও নতুন ঠিকানা ঘিরে রীতিমত হইচই শুরু হয়ে গেছে।

তবে এবারই যে প্রথম বিদায় বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড, তা কিন্তু নয়।
এর আগে ২০১৪ ও ২০১৬ সালে বাজে মৌসুম ও ট্যাক্স সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে বার্সা ছাড়ার খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন মেসি। পরে অবশ্য ক্যাম্প ন্যুয়ে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আবার ২০১৬ সালেই আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তও পরে বদলে যায়।

তিনবার সিদ্ধান্ত বদলে যেহেতু যাননি, তাই বর্তমান হোসে মারিয়া বার্তোমেউর নেতৃত্বে থাকা বার্সার বর্তমান বোর্ড এই আশাতেই আছে যে এবারও হয়তো যাবেন না ছয়বারের ব্যালন ডি’অরজয়ী। যদিও গত মঙ্গলবার বুরোফ্যাক্সের (প্রত্যায়ন পত্র) মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

এদিকে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, নতুন মৌসুম শুরুর আগে করোনা পরীক্ষা করাতে ক্যাম্প ন্যুয়ে হাজির হবেন মেসি। এরপর সেখানে অনুশীলনেও করবেন। ফলে বার্সার বোর্ড কিছু সময় পাচ্ছে মেসির সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর।

আপাতত দেখে নেওয়া যাক, যে কয়বার বিদায় বলার সিদ্ধান্ত নিয়েও মত বদল করেন মেসি।

২০১৪: টাটা মার্টিনোর মেয়াদ

২০১৩/১৪ মৌসুমে অসুস্থ টিটো ভিলানোভার বদলে বার্সার কোচের দায়িত্বে নেন টাটা মার্টিনো। সেই মৌসুমটা মেসির জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। টানা ইনজুরি, দলের বাজে ফর্ম, কোপা দেল রের ফাইনালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোবিহীন রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হার, চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে বিদায় নেওয়া এবং ক্যাম্প ন্যুয়ে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের লা লিগার শিরোপা উৎসব সবমিলিয়ে বরদাশতের বাইরে চলে গিয়েছিল।

সেবার মৌসুম শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে প্রয়াত ভিলানোভাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন মেসি এবং সেখানেই ক্লাব ছাড়ার ব্যাপারে সাবেক গুরুর কাছে পরামর্শ চান তিনি। তবে ভিলানোভা তাকে থেকে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বিষয়টি পরে প্রকাশ্যে আনেন ভিলানোভার সাবেক সহকারী জর্দি রোরা।

২০১৬: ট্যাক্স সমস্যা

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর, ট্যাক্স সংক্রান্ত ঝামেলায় জড়িয়ে বিচারের মুখোমুখি হন মেসি। বিষয়টা স্পেনে রীতিমত ঝড় তুলেছিল। গত বছর এক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই জানিয়েছেন, ওই ঘটনার পর বার্সা নয়, বরং স্পেন ছাড়ারই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। তার সঙ্গে সেসময় অন্যায় করা হয়েছিল বলে বিশ্বাস তার। বেশ কয়েকটি ক্লাব থেকে প্রস্তাবও পেয়েছিলেন তিনি।

তবে সেবার সুয়ারেস ও নেইমারের সঙ্গে দুর্দান্ত এক ত্রয়ী গড়ে উঠেছিল। এই ত্রয়ীর সাফল্যে ভর করে সেবার ডাবল জিতে যায় বার্সা। ফলে কর ফাঁকির মামলায় লিওনেল মেসি ও তার বাবা হোর্হে হোরাসিও মেসির ২১ মাসের জেলের সাজা হওয়া সত্ত্বেও বার্সা ছাড়েননি তিনি। তবে এধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে (যদি হিংস্র না হয়) স্পেনের আইন অনুযায়ী সাজার মেয়াদ দুই বছরের কম হলে সাধারণত জেলে যেতে হয় না।

২০১৬: আর্জেন্টিনাকে বিদায়

২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে পেনাল্টি শুট আউটে চিলির কাছে হারার পর মন ভেঙে যায় মেসির। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘(ম্যাচ শেষে) ড্রেসিং রুমে গিয়ে আমার মনে হয়েছিল জাতীয় দলের হয়ে আর নয়। এটা শুধু আমার জন্য নয়, দলের জন্যই এবং আমি এখন এমনটাই অনুভব করছি। আমি আর্জেন্টিনার হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু এমনটা হয়নি, আমি এটা অর্জন করতে পারিনি। ’

তবে সেপ্টেম্বরেই ফের জাতীয় দলে ফিরে আসেন মেসি। নতুন কোচ এদোয়ার্দো বাউসা এবং দলের তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত বদলান তিনি। এরপর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও স্বেচ্ছা অবসরে চলে যান মেসি। কিন্তু পরে ঠিকই ফিরে আসেন। এসব কারণেই বার্সা সমর্থকরা এখনও আশায় আছেন, প্রিয় ক্লাব ছেড়ে যাবেন না তিনি।

তথ্য সুত্রঃ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম