সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়ার দাবী


এনায়েতপুরের তাঁতি ও শ্রমিকদের মানবেতর দিনযাপন

করোনাে ক্রান্তিকালে ভালো নেই এনায়েতপুরে থানার অন্তর্গত এনায়েতপুর, খুকনি, শিবপুর, গোপীনাথপুর, রুপসীসহ আশপাশের তাঁতি ও  শ্রমিকেরা।

ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পে মন্দাভাব বিরাজ করায় পুঁজি সংকটসহ বহুমূখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। তাঁত নির্ভর জেলা সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের মানুষের প্রধান কর্মই হল তাঁত । অর্থাভাবে তাঁত বন্ধ থাকায় ও অন্য কোন কাজ না জানায় তারা দিনে দিনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের সংসার চালানোর কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। কাজের কোন পথ খোলা না থাকায় তারা রাজধানীর বুকে পাড়ি দিচ্ছে। এতে করে তাঁত শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

তাঁত মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি শাড়ি কাপর তৈরি করতে আগে খরচ হতো ৪০০টাকা সেই শাড়ি বর্তমানে ৫০০/৫৫০ টাকা উৎপাদন খরচ হচ্ছে।খরচ বৃদ্ধি পেলেও ন্যায্য দামে উৎপাদিত বস্ত্র বিক্রি করতে পারছে না তারা। তাছাড়া চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় ক্রেতা সংকট পড়েছে তাঁত মালিকরা।  এমতবস্থায় কাপড় উৎপাদন করতে আগ্রহ হারাচ্ছে সাধারণ তাঁত মালিক ও মহাজনেরা।

স্থানীয়  তাঁত শ্রমিক কুরবান সেখ বলেন, ‘তাঁতের কাজ না থাকায় স্বপরিবারে কাজের সন্ধানে নারায়ণগঞ্জ চলে যাচ্ছি। এখানে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে। তিনি আরো বলেন আমার মতন অনেক তাঁত শ্রমিক এলাকা ছাড়া হয়েছে।’

এলাকার বেশ কয়েকজন কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, বাইরের ক্রেতা না আসার কারণে কাপড় বিক্রি করতে পারছিনা, ফলে মহাজনদের নিকট থেকে কাপড় নিতে পারছিনা, বিক্রি না থাকার ফলে তারা কাপড় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় তাঁতী মহাজন  আজাহার বলেন, কাপড় বিক্রি করতে না পারলে উৎপাদন করে কি করব। তা ছাড়া সুতার দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাবার কারণে খরচের মাত্রা বেড়ে গেছে, আমরা এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না । এমতাবস্থায় তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছি।

তাঁতীরা আরও জানান, করোনাকালীন সময়ে দেশের তাঁতসমৃদ্ধ বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক তাঁতিদের পুঁজি সংকট লাঘবে সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে আমাদের তা না দেয়ায় পুঁজি সংকটে পড়ে বর্তমানে আমরা চোখেমুখে সর্ষের ফুল দেখছি।