এনডিপি’র মামলায় বিনাদোষে নিরীহ ব্যবসায়ীর ২ দিন হাজতবাস!

শামছুর রহমান শিশির, বিশেষ প্রতিবেদক : ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি) এর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর শাখা-০৮ থেকে ঋণ না নিয়ে, ঋণগ্রহীতার পক্ষে জামিনদার না হয়েও বিনাদোষে ২ দিন হাজতবাস করতে হলো রওশন নামের নিরীহ এক ব্যবসায়ীকে। শাহজাদপুর উপজেলার হাঁসাকোলা গ্রামের আবু তালেবের ছেলে হাঁসাকোলা তালতলা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রওশন আলী বিষয়টি বারবার এনডিপি’র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, অডিট অফিসার ও স্থানীয় শাখা ব্যবস্থাপককে অবহিতপূর্বক চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েও কোন প্রতিকার না পেয়ে তীব্র ক্ষোভ, দুঃখ আর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি এ ঘটনায় চরম বিষ্ময় প্রকাশ করে অবিলম্বে তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, নিন্দিত ওই মামলা প্রত্যাহার ও ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত এনডিপি’র কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিন উপজেলার হাঁসাকোলা তালতলা পরিদর্শণকালে এলাকার বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী, ভূক্তভোগী রওশন ও এনডিপি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সিরাজগঞ্জের অর্থঋণ আদালতে দায়েরকৃত মামলা সূত্রে প্রকাশ, শাহজাদপুর উপজেলার হাঁসাকোলা গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী রুবি খাতুন (রওশনের চাচী) গত ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি) শাহজাদপুর শাখা-০৮ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। কিস্তির শেষের দিকে এনডিপি’র অবশিষ্ট পাওনা ২২ হাজার ৬’শ টাকা ঋণ গ্রহীতা রুবি খাতুন সময়মতো পরিশোধে ব্যার্থ হওয়ায় গত বছরের ৮ আগষ্ট এনডিপি’র শাখা ব্যবস্থাপক সাইদুর রহমান ঋণ গ্রহীতা রুবির ভাতিজা রওশনকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে রুবির ঋণের জামিনদার বানিয়ে, অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের অপকৌশল হিসেবে ইসলামী ব্যাংক, শাহজাদপুর শাখার জনৈক গ্রাহক রজবের নিজ নামীয় ১০৪২০ নং মুরদাবা সঞ্চয়ী হিসাবের একটি একাউন্ট পে একক চেক (যাহার নং- গঝছ ০০৮৪২৮৪, টাকার পরিমান: ২২,৬০০/= কথায়: বাইশ হাজার ছয়শ, তারিখ: ২৭/০৭/২০১৭ ইং) ওয়ান ব্যাংক স্থানীয় শাখার মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। ওয়ান ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ইসলামী ব্যাংক স্থানীয় শাখায় আদায়ের জন্য পাঠালে ওই একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ও চেকে প্রদত্ত স্বাক্ষর গ্রাহকের স্বাক্ষরের সাথে না মেলায় তা ব্যাংক কর্তৃক চেকটি প্রত্যাখ্যিত হয়।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়, প্রাচীনকাল থেকে বহুল প্রচলিত,‘চাচার কবর কোথায়, চাচি কান্না করে কোথায়?’ এর মতোই এনডিপি’র স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষ জনৈক রজবের ব্যাংক হিসাবের চেকবই হাঁসাকোলার রওশনের নামে ব্যবহার করে রওশনকে একমাত্র বিবাদী করে সিরাজগঞ্জ অর্থঋণ আদালতে চেক প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করে (সিআর-২০৪/১৭(শাহ)। প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত রওশনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে শাহজাদপুর থানা পুলিশ চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে রওশনকে হাঁসাকোলা গ্রামস্থ তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে সিরাজগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করে। সেখানে বিবাদী রওশন ২ দিন হাজতবাস খেটে অবশেষে জামিনে মুক্তি পান।
এ বিষয়ে রওশন বলেন,‘এনডিপি কর্তৃপক্ষ যে চেক দাখিল করে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, সে চেকটি আমার নয়, সেটি বাড়াবিলের রজবের। আমার ইসলামী ব্যাংক স্থানীয় শাখায় একটি কৃষি একাউন্ট রয়েছে যাতে লেনদেনের ক্ষেত্রে আমি এটিএম কার্ড ব্যবহার করি। আমার হিসাব নাম্বারের অনুকূলে আজ পর্যন্ত কোন চেকবইই ইস্যু করেনি ব্যাংক কর্র্তৃপক্ষ। তাছাড়া, আমার চাচী রুবি খাতুনের ঋণের জামিনদারও আমি নই। তারপরেও কেন আমার বিরুদ্ধে এনডিপি কর্তৃপক্ষ মামলা করে বিনাদোষে জেল খাটালেন, তা বোধগম্য নয়। তবে এ ঘটনা তদন্তপূর্বক প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটাই আকুতি জানাই, এ ঘটনায় দোষীদের সনাক্তপূর্বক সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে কোন এনজিও কর্তৃপক্ষ নিরীহ মানুষকে এভাবে হয়রানী করতে না পারে।’ অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি) শাহজাদপুর শাখা-০৮’র শাখা ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘জামিনদার মৌখিকভাবেও হতে পারে, যেমনটি রওশন হয়েছে।’ ‘মামলায় দাখিলকৃত চেকের গ্রাহক তো বাড়াবিলের রজব। তাহলে হাঁসাকোলার রওশনকে কেনো ওই চেক ব্যবহার করে মামলা দায়ের ও বিনাদোষে জেল খাটানো হলো?’-সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নে শাখা ব্যবস্থাপক কোন সদুত্তর না দিয়ে বলেন,‘ আপনি আমাদের অফিসে এসেছেন, সে বিষয়টি আমি হেড অফিসকে অবহিত করেছি।’