মুজিব নগর সরকারের ৫০ বছর পূর্তি


এটাই সহজ সরল হিসেব

আজ ঐতিহাসিক ১৭ এপ্রিল। ১৯৭১ সালের এদিনে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার ভবের পাড়া গ্রামের বিশাল এক আমবাগানের মাঝে ঘোষিত মুজিব নগরে গঠিত হয়েছিল ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ ঠিকানা ছিল মুজিব নগর। আজ মুজিব নগর সরকারের ৫০ বছর পূর্তি।

১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করেছিলেন। সকল প্রতিবন্ধকতা, অভ্যান্তরীন ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে শুরু করেছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের। তাঁদের সফল নেতৃত্ব নয় মাসে যুদ্ধ বিজয় অর্জনের মাঝ দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম ও স্বীকৃতি মিলেছিল। ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) স্বাধীনতা।

সে সময়ে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি তার অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদ প্রধান মন্ত্রী ছাড়াও প্রতিরক্ষা, তথ্য,সম্প্রচার ও যোগাযোগ,অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা,স্থানীয় সরকার,স্বাস্থ্য,শ্রম, সমাজকল্যাণ,সংস্থাপন বিষয়ক মন্ত্রী। এম মনসুর আলী- অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, এ এইচ এম কামরুজ্জামান- স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয় মন্ত্রী। খন্দকার মুশতাক (বিশ্বাসঘাতক)- পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রী নিয়োগে মাঝ দিয়ে- গণপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। ফলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ একটি আইনগত ভিত্তি পেয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে অনান্য ব্যার্থ বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের পরিণতি থেকে রক্ষা পায় I নব গঠিত সরকারের বলিষ্ট নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধকালীন ১১টি সেক্টর রণাঙ্গন প্রতিষ্ঠা পায়। বিভিন্ন রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে অংশ গ্রহন ও তাদের আত্মত্যগের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। সরকার সাফল্য অর্জন করেন।

সে সময়ে তাজউদ্দীনের নেতৃত্বধীন সরকারকে ১ কোটি শরণার্থীর দেখভাল করতে হয়েছিল।

১৯৭০ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সংখ্যাগরিষ্ট আসনে বিজয় লাভ। পরবর্তীতে নির্বাচনে বিজয়ী দল আওয়ামীলীগের কাছে পাকিস্তানের সামরিক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করা এবং ২৫ মার্চ গভীর রাতে অপারেশান সার্চ লাইটের নামে গণহত্যা শুরুর বিরুদ্ধে বাংগালির জাতীয় প্রতিরোধ যুদ্ধের মাঝ দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকার গঠন এবং মুক্তিযুদ্ধের শুরুটাই ছিল
রাজনীতির এ্যাসিড টেস্ট- স্বশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।

এই যুদ্ধের ফলাফল প্রত্যাশা ছিল শোষণ, বঞ্চনা, বৈষম্যহীন, সামাজিক,সাংস্কৃতিক,অর্থনৈতিক মুক্তির মাঝ দিয়ে বাংগালির জাতীয় মুক্তি,সাম্য,মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার গণতান্ত্রীক রাজনীতির অঙ্গীকার। যা মুজিব নগরে গঠিত ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত হয়েছিল।

স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী ৫০ বছর পূর্তিতে এসে লক্ষণীয় হলো,আমাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিযোগটা শুন্য। এটাই সহজ সরল হিসেব।

যে সকল মুক্তিযোদ্ধারা ভাবেন মুক্তিযোদ্ধারা রাজনীতির অংশ নয়। তারা রাজনীতির কথা বলতে পারবেন না। রাজনীতির কথা বলাটাই অপরাধ। ব্যক্তি ও কোটারী স্বার্থে দলান্ধ এজিবি (অল ওয়েজ গর্ভরমেন্ট পার্টি) হয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করবেন। ব্যক্তির গুনকীর্তন গাইবেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা দিয়ে (যা বিগত ৫০ বছর দরে চলছে) মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবেন। তাদের কথা ভিন্ন। কারন তাঁরা নিজেরা মুক্তিযোদ্ধার মূল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেদের চারিত্রিক বৈশিষ্টও তাঁরা হারিয়ে ফেলেছেন। দেশের এমনতর এক সন্ধিক্ষণে ধর্মান্ধ পাকিস্তানের পরাজিত শক্তি ধর্মের নামে শিকড় বাকর গজিয়ে যখন আক্রমণ মুখী তখন বঞ্চিত নাগরীক সাধারনের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধের মুল চেতনা জাগরণের কথা কে বা কারা বলবেন সেটিই এখন প্রশ্ন? নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান সঠিক রাজনৈতিক ধারাই কেবলমাত্র জাতির রক্ষাকবজ হতে পারে। সেই সাথে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারের কাছে ঐতিহাসিক মুজিব নগরকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী প্রথম রাজধানী হিসেবে ঘোষণার দাবী জানাই।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
১৭ এপ্রিল,২০২১ খৃষ্টাব্দ,
৪ ঠা বৈশাখ,১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার ।