একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার প্রস্তাব

স্বাধীনতা বিরোধী সাইফউদ্দিন এহিয়া স্কুল ও কলেজের নাম পরিবর্তন করে  “বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্কুল ও কলেজ” করা হোক।

কি কারনে কবি নজরুলের নামে করা উচিৎ এর যৌক্তিক ব্যখা দেয়া নীচে দেয়া হলো। যারা এ যুক্তি খন্ডন করতে চান তারা লিখবেন।

* বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের নামে শাহজাদপুরে ” রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ” হচ্ছে। যা ইতিপূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করে গেছেন।

* এখন আমাদের জাতীয় কবি “কাজী নজরুল ইসলামের ” নামে একটি স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আমরা শাহজাদপুর বাসী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিক থেকে অনেকাংশে এগিয়ে যেতে পারবো।

// আমার যুক্তি//

নজরুলের ‘বিদ্রোহী আত্না ও স্বাধীন ঐতিহাসিক সত্তার’ সুস্পষ্ট সনাক্তকারী জাতির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সচেতন ভাবেই নজরুলের কাছ থেকে এই ব্রহ্মধ্বনি ” জয়বাংলা ” গ্রহন করে সকল কালের সকল বাঙালীর জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করেছেন। নজরুল সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর মু্ল্যায়ন এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, ‘ নজরুল বাঙািলির বিদ্রোহী আত্না ও বাঙালীর স্বাধীন ঐতিহাসিক সত্তার রূপকার। পরাধীন জাতির তিমিরঘন অন্ধকারে বিশ্ববিধাতা নজরুলকে এক স্বতন্ত্র ছাঁচে গড়ে পাঠিয়েছিলেন এই ধরার ধুলায়।’

কাজেই নজরুল ও বঙ্গবন্ধু উক্তিতে উপলদ্ধিতে অভিন্ন। একজন বিদ্রোহের উচ্চারক ও পরিকল্পক, অন্যজন তার ধারক ও বাস্তবায়ক। বাঙালীর পরিশ্রুত প্রকৃতির নাম নজরুল আর বাঙালীর শুদ্ধ নাম শেখ মুজিবুর রহমান। বিষয়টি সামাজিক ও নান্দনিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

বাঙালীর সেই বিদ্রোহী স্বত্তা ও বিজয়ী চেতনার ধারাবাহিকতার আলোকে এ কালের কবির প্রতিধ্বনি–‘ নজরুলের সেই ‘জয়বাংলা’ কন্ঠে নিল বাংলার ভূপ্রকৃতি, বিলঝিল, শঙ্খচিল, ধরিত্রী উদগ্রীব/ নজরুলের সেই ‘জয়বাংলা’ কন্ঠে নিল বাঙালীর জাতির পিতা শেখ মুজিব।/ সেই সেই ধ্বনি অনন্ত প্রবাহিনী।/ সেই থেকে এই ধ্বনি বাঙালীর বিপদনাশিনী।/ সেই থেকে এই ধ্বনি জনগণমন গিরিতটমন সাগর-নদীর।/সেই থেকে বল বীর বল চির-উন্নত-মমশির,।/

বিদ্রোহী বাঙালী ও বিজয়ী বাঙালীর এই জয়ধ্বনি ক্রম প্রসারমান বিশ্ববাঙালীর বুকে- মুখে হয়ে উঠুক এক অসাম্প্রদায়িক ও অভিন্ন উচ্চারণ।

“জয়বাংলা” বিজয়ের ধ্বনি, মুক্তিযুদ্ধের ধ্বনি, মুক্তিযোদ্ধার ধ্বনি, স্বাধীনতার ধ্বনি, বাঙগালি জাতির চেতনার ধ্বনি। যে ধ্বনি আমাদেরকে এ স্বাধীন দেশ ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছে, সেই ধ্বনির প্রথম উচ্চারক আমাদের জাতীয় কবি নজরুলের নামে শাহজাদপুরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তু্লতে পারাটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।

তাই আসুন,

// “সবাই মিলে একশুরে গেয়ে যাই জয়বাংলার গান,
কলেজে প্রতিষ্ঠা পাক কবি নজরুল ইসলামের নাম।//

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.