একই তারিখে সিরাজগঞ্জের দুই নক্ষত্রের শেষ বিদায়

আজকে ১৩ জুন ২০২০ তারিখে সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মৃত্যুবরণ করলেন। কাকতালীয় ভাবে একই দিনে সিরাজগঞ্জ জেলার আরেকজন কৃতি সন্তান সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক এম এ মতিনও ১৩ জুন মারা যান। ৮ বছর আগে ২০১২ সালে এ দিনে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় তিনি মৃত্যু বরণ করেছিলেন। তাঁর আদি নিবাস ছিল শাহজাদপুরে শ্রীফলতলা গ্রামে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর যে তিনজন মানুষ সিরাজগঞ্জের উন্নয়নের জন্য উল্ল্যেখযোগ্য অবদানের জন্য চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবেন, তারা হলেন- শহীদ এম মনসুর আলী, অধ্যাপক ডাঃ এম এ মতিন এবং মোহাম্মদ নাসিম।

মোহাম্মদ নাসিম বাংলাদেশ সরকারের অনেকগুলি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। সদ্যপ্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের পিতা শহীদ এম মনসুর আলী যমুনা নদীর উপর সেতু নির্মানে বঙ্গবন্ধুকে উদ্বুদ্ধ করেন ও সম্মত করান এবং সিরাজগঞ্জে স্থান নির্বাচনে জাপানীদের মাধ্যমে জরিপ কাজের সূচনা করেন। পরবর্তী যমুনা নদীতে সেতু নির্মিত।

মোঃ নাসিম আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারে তিনি স্বরাষ্ট্র, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে টানা ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বাবা জাতীয় নেতা শহীদ এম মনসুর আলী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর এবং বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রধানমন্ত্রী।

অধ্যাপক ডাঃ এম এ মতিন সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনেক কয়েকটি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপালন করেন এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অন্যতম ব্যাক্তি হিসাবে পরিচিত ছিলেন। অধ্যাপক ডাঃ এম এ মতিন সিরাজগঞ্জে যমুনাসেতুর স্থান চুড়ান্তভাবে নির্বাচনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৯ সনে সিরাজগঞ্জে মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল স্থাপন করেন এবং সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালকে ৫০ শয্যার হাসপাতাল থেকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে পরিণত করেন। অধ্যাপক ডাঃ এম এ মতিন উত্তর বঙ্গে সর্বপ্রথম বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ, সিরাজগঞ্জ স্থাপন করেন।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় জন্ম নেওয়া এম এ মতিন ছিলেন একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। শাহজাদপুর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে তিনি জিয়াউর রহমান ও পরে এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন তিনি। দুই সরকারে তিনি স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, যুব ও ক্রীড়া, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে এরশাদ সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

১৩ জুন সিরাজগঞ্জের মানুষের কাছে দু’জন কৃতিসন্তানকে হারানোর দিন হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকলো।

মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার
প্রধান সম্পাদক, শাহজাদপুর সংবাদ ডটকম
৩০ জৈষ্ঠ্য ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
১৩ জুন ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ