উল্লাপাড়ায় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে কাজ করছে মুক্ত বিহঙ্গ

ইমাম হাসান তানিম, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) : ‘এসো প্রতিরোধ করি বাল্য বিবাহ, নারীর চোখে দেখি বিশ্ব’ শ্লোগানকে সামনে রেখে উল্লাপাড়ায় বাল্য বিয়ে রোধে কাজ করছে নাবালিকা শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘মুক্ত বিহঙ্গ’। মাত্র ১ মাস আগে স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। ১৪ সদস্যের এই সংগঠনের সভাপতি সুবহানা রোদেলা হৃদি এবং সাধারণ সম্পাদক আয়শা সিদ্দিকা শিমু। এরা দু’জনই উল্লাপাড়া মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। সংগঠনের অপর সদস্যরা স্থানীয় বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী। উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে গিয়ে মেয়েদেরকে বাল্য বিয়ের কুফল ও পরিণতি সম্পর্কে অবহিত ও সতর্ক করছে এই সংগঠন। উপজেলা প্রশাসন ও উল্লাপাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এদের কাজে সহযোগিতা দিচ্ছে।
মুক্ত বিহঙ্গ’র সভাপতি সুবহানা রোদেলা হৃদি জানান, গত আগষ্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ কুমার সরকারের ব্যক্তিগত উদ্যোগে নাবালিকা মেয়েদের নিয়ে স্কুল পর্যায়ে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে এই নয়া সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বাল্য বিয়ে বিষয়ক উপকরণ ক্রয় ও সংগঠনের সদস্যদের যাতায়াত খরচ হিসেবে ইউএনও মুক্ত বিহঙ্গ’র তহবিলে ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। সংগঠনের সদস্যরা মাসে ২০ টাকা করে চাঁদা দিচ্ছে। রোদেলা জানান, ইতোমধ্যেই তারা উল্লাপাড়ার মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুল, হামিদা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, সানফ্লাওয়ার স্কুল ও হীরা প্রি-ক্যাডেট স্কুলে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সভা করেছে। চলতি মাসে আরও কয়েকটি স্কুলে সভার কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ সভা আয়োজনে সহযোগিতা দিচ্ছে। সাড়া পাওয়া যাচ্ছে ছাত্রীদের মধ্যেও। গত সপ্তাহে মুক্ত বিহঙ্গ থেকে উল্লাপাড়ার চরকালিগঞ্জে রহিমা খাতুন নামের এক স্কুল ছাত্রীর বাল্য বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এই গ্রামের ইব্রাহিম আকন্দের মেয়ে রহিমা বন্যাকান্দি এন.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। বিয়ে ভেঙ্গে দেবার পর রহিমা খাতুনের বাবা মেয়েটির পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। মুক্ত বিহঙ্গ’র পক্ষ থেকে মেয়েটিকে খাতা ও কলম দেওয়া হয়েছে। রোদেলা বলেন, গোটা উপজেলায় এই কর্মকান্ড পরিচালিত হবে। উপজেলা প্রশাসন, উল্লাপাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, সাংবাদিক আতাউর রহমান রাজু এবং কলেজ শিক্ষক রাশেদা সুলতানা রোজি তাদের কাজে সহযোগিতা দিচ্ছেন বলে রোদেলা উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, মুক্ত বিহঙ্গ বাল্য বিয়ে রোধে মহতি কাজ করছে। এ কাজ অব্যাহত রাখতে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা দেবেন।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সরকার জানান, বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে নাবালিকাদের এই নয়া সংগঠনটির সদস্যরা বেশ উৎসাহী। তারা ভালো কাজ করছে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের পক্ষে বাল্য বিয়ে সংক্রান্ত যে কোন কথা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে বলা সহজ না হলেও তাদের সহকর্মী মেয়েদের কাছে তারা সহজেই বলতে পারবে। বিশেষতঃ গ্রামাঞ্চলের অশিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত পরিবারে বাল্য বিয়ের প্রবণতা বেশি। এই সংগঠনের মাধ্যমে মেয়েরা প্রয়োজনে স্ব স্ব পরিবারে নিজেরাই বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে বড় ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে ইউএনও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।