উত্তোরাঞ্চলের ১৬ জেলায় আপদকালীন সার মজুদ বিঘ্নিত 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দরগামী ৩৫ টি সারবাহী কার্গো-জাহাজ যমুনা নদীর পানির নাব্যতা সংকটের কারণে দুই সপ্তাহ ধরে পাটুরিয়া-দৌলদিয়া এলাকায় আটকা পড়ে আছে। ফলে আসন্ন সেচ মৌসুমে সিরাজগঞ্জ সহ উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার ১৪ টি বাফার গুদামে আপদকালীন সার মজুদের কাজ চরম ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সময় মত এ মজুদের কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে সেচ মৌমুমে সারের কৃত্রিম শংকট সৃষ্টির আশংকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিআইডাব্লিুউটিএ নাব্য সংকট স্থানে ড্রেজিয়ের কাজ শুরু করলেও তা ধীরগতিতে চলতে থাকায় এ থেকে তেমন কোন সুবিধা আসছেনা বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ড্রেজিং চলছে, অল্পদিনের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে বিসিআইসির বগুড়া আঞ্চলিক অফিসের লিয়াজো অফিসার শামীম আহমেদ জানান, এ বছর উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার ইরি-বোর আবাদের জন্য বাফার ১৪ টি গুদামে আগে থেকেই ২ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন সার মজুদ করা আছে। এর পরেও আরো ৯ লক্ষ মেট্রিক টন সার বিভিন্ন পথে আমদানি করা হচ্ছে। এর সিংহভাগ সার বাঘাবাড়ি নৌবন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। এ নৌ রুটে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি হওয়ায় আপদকালীন সার মজুদের কাজ কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে এ অবস্থা সাময়িক বলে তিনি জানান। এ দিকে যমুনা নদীতে নাব্যতা না থাকায় বাঘাবাড়িনৌবন্দরে সারবাহী জাহাজ তুলনামূলক ভাবে কম আসার কারণে কাজ কর্ম কমে যাওয়ায় বন্দর শ্রমিকরা অনেকটা বেকার সময় কাটাচ্ছে। এতে তাদের উপার্জন কমে যাওয়ায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ ব্যাপারে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের লেবার এজেন্ট আবুল হোসেন জানান, সারবাহী জাহাজ কম আসায় তারাও আর্থিক ভাবে চরম লোকসানে পড়েছেন। তিনি দ্রুত এ নৌ রুটের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিং কাজ আরো দ্রুত করার জোর দাবী জানিয়েছেন।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.