উত্তরাঞ্চলের সড়ক মহাসড়ক ঝূঁকির্পূণ; ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে নেই মাথাব্যাথা; জনদুর্ভোগ বাড়ছে

শামছুর রহমান শিশির : উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পাবনা-শাহজাদপুর-বগুড়া-গাইবান্ধা-রংপুর-নীলফামারী সড়ক মহাসড়কে ওভারলোড নিয়ে প্রতিদিন চলছে শতশত পন্যবাহী যানবাহন। মাত্রাতিরিক্ত লোড নিয়ে মালবাহী যানবাহন চলাচল করায় শত শত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত পাবনা-শাহজাদপুর-বগুড়া-গাইবান্ধা-রংপুর-নীলফামারী সড়ক মহাসড়কের স্থায়ীত্ব কমছে। উত্তরাঞ্চলের অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক মহাসড়কে ওভারলোড নিয়ন্ত্রনে নেই কার্যকরী ব্যবস্থা। ফলে ওভারলোড নিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচলে এ সড়ক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ পাথর উঠে যাচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে অসংখ্য খানা-খন্দের। আর ওই খানা-খন্দ মেরামতে প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ উত্তরাঞ্চলের সর্বাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক মহাসড়কের ওপর দিয়ে চলাচলকারী শত শত মালবাহী যানবাহনের লোড নিয়ন্ত্রনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা হলে একদিকে যেমন সড়ক মহাসড়কের স্থায়ীত্ব বাড়বে। অন্যদিকে সরকারী অর্থের অপচয় রোধ হবে।এছাড়া পাবনা-শাহজাদপুর-বগুড়া-গাইবান্ধা-রংপুর-নীলফামারী সড়ক মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমানও বহুলাংশে কমে যাবে।
পাবনা-শাহজাদপুর-বগুড়া-গাইবান্ধা-রংপুর-নীলফামারী সড়ক মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন চালক ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,উত্তরাঞ্চলের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পাবনা-শাহজাদপুর-বগুড়া-গাইবান্ধা-রংপুর-নীলফামারী সড়ক মহাসড়কের ওপর দিয়ে প্রতিদিন ওভারলোড নিয়ে শত শত মালবাহী যানবাহন চলাচল করছে।বিশেষ করে শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর এলাকা থেকে প্রতিদিন ওই সড়ক মহাসড়ক দিয়ে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রংপুর, গাইবান্ধা,
নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, চাপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, নাটোর, নওগাঁ, রাজশাহী, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার বাঘাবাড়ী,পার্বতীপুর, রংপুর, পুলহাট, চরকাই, গাইবান্ধা, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, চাপাই নবাবগঞ্জ, মহেন্দ্র নগর, শান্তাহার, কুড়িগ্রাম এ ১৪টি বাফার স্টকে ইউরিয়া,এমওপিসহ সব ধরনের রাসায়নিক সার ট্রাকযোগে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় জ্বালানী তেল,কয়লা,খাদ্যশষ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। আবার উত্তরাঞ্চল থেকে সরকারিভাবে ধান,চাউল সংগ্রহ করে ওই সড়কপথে বাঘাবাড়ী খাদ্যগুদামসহ বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দরের জেটি এলাকায় নোঙ্গর করা কার্গো জাহাজে লোড করে নৌ-পথে সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে।এছাড়া ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে ও আরিচা ফেরিঘাটে ফেরিযোগে যমুনা নদী পাড়ি দিয়ে ওভারলোড নিয়ে শত শত মালবাহী পরিবহন পাবনা-শাহজাদপুর-বগুড়া-গাইবান্ধা-রংপুর-নীলফামারী সড়ক মহাসড়কের ওপর দিয়ে নিয়মিত চলাচল করছে। ওভারলোড নিয়ে নিয়মিত অসংখ্য যানবাহন চলাচল করায় পাবনা-শাহজাদপুর-বগুড়া-গাইবান্ধা-রংপুর-নীলফামারী সড়ক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ পাথর উঠে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে অসংখ্য খানা-খন্দের। সড়ক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ওভারলোড নিয়ে যানবাহন চলাচল জনিত কারনে সৃষ্ট অসংখ্য খানা-খন্দের ওপর দিয়ে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সব ধরনের যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ফলে এ সড়ক মহাসড়কে নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনা লেগে থাকার পাশাপাশি যানবাহনেরও ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে।আবার ওই সড়ক মহাসড়কের ওইসব খানা-খন্দ মেরামত ও ভরাটে প্রতি বছর সরকারকে মোট অংকের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।অথচ মালবাহী যানবাহনের ওভারলোড নিয়ন্ত্রনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হলে ওই সড়ক মহাসড়কের স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি ও সরকারি অর্থের অপচয় বহুলাংশে হ্রাস পেতো।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কে গড়ে ১৫ থেকে ২০ টন পন্য ট্রলিযোগে পরিবহনের নিয়ম রয়েছে। ওই সড়ক মহাসড়কে চলাচলকারী পন্যবাহী যানবাহনের লোড ক্যাপাসিটি মূলত যানবাহনের পেছনের চাকার ওপর নীর্ভর করে। অর্থাৎ যানবাহনের চাকা যত বেশী হবে মহাসড়কে ট্রলির লোডপার্মিটও তত বেশী হবে।একটি মালবাহী ট্রলির পেছনে যদি দুই দুই অর্ধাৎ চার চাকা থাকে তাহলে ওই ট্রাকে সর্বোচ্চ ২০ টন পন্য ও মালামাল পরিবহন করা যাবে।আর যদি পন্যবাহী যানবাহনের পেছনে চার চার অর্থাৎ আট চাকা থাকে তাহলে মহাসড়কে অতিরিক্ত আরও ১০ থেকে ১৫ টন মালামাল বেশী পরিবহন করতে পারবে। পেছনের আট চাকার একটি ট্রলিতে সর্বোচ্চো ৩৫ টন পর্যন্ত মালামাল ও পন্য মহাসড়কে পরিবহন করতে পারবে। তবে চাকার ক্যাপাসিটি অনুযায়ী ট্রলির পেছনের ৪ চাকা থাকলে ২০ টনের ওপরে ও ট্রলির পেছনের ৮ চাকা থাকলে ৩৫ টনের বেশী মালামালবাহী কোন ট্রলি মহাসড়কে চলার নিয়ম নেই।’
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাবনা-শাহজাদপুর-বগুড়া-গাইবান্ধা-রংপুর-নীলফামারী সড়ক মহাসড়কে নিয়মের অতিরিক্ত লোড নিয়ে প্রতিনিয়ত অসংখ্য পন্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে। মালবাহী পেছনের ৪ চাকা বিশিষ্ট একটি পরিবহনে ২০ টনের পরিবর্তে ৩০/৪৫ টন এবং পেছনের ৮ চাকা বিশিষ্ট একটি পরিবহনে ‘সওজ’র অনুমোদিত লোডের অনেক বেশী লোড নিয়ে নির্বিঘেœ ওই সড়ক মহাসড়কে চলাচল করছে অসংখ্য পন্যবাহী যানবাহন। বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় লোড পরিমাপের ব্যবস্থা থাকলেও পাবনা-শাহজাদপুর-বগুড়া-গাইবান্ধা-রংপুর-নীলফামারী সড়ক মহাসড়কে লোড পরিমাপের কোন সুব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়নি। চালক ও পরিবহন মালিকদের গাঁয়ের জোড়ে,টাকার জোড়ে ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক মহাসড়ক দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত লোড নিয়ে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করায় ওই সড়ক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে অসংখ্য খানা-খন্দ। একটি লোহাবাহী ৬ চাকার ট্রাকে সর্বোচ্চে ২০ টনের পরিবর্তে ৩০/৪০ টন লোহা পরিবহন করা হচ্ছে।ওভারলোড নিয়ন্ত্রনে সংশ্লিষ্টদের উল্লেখযোগ্য কর্মতৎপরতার অভাবে উত্তরাঞ্চলের ওই সড়ক মহাসড়ক দিয়ে নির্বিঘেœ প্রতিনিয়ত অভারলোডবাহী অসংখ্য যানবাহন চলাচল করায় ওই সড়ক মহাসড়কের স্থায়িত্ব ক্রমশঃ হ্রাস পাচ্ছে। অনেক স্থানে পিচ পাথর উঠে যাচ্ছে।ফলে ওই সড়ক মহাসড়ক মেরামত সংস্কারের নামে প্রতি বছর সরকারের কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত মাশুল গুনতে হচ্ছে।এজন্য অনতিবিলম্বে সরকারের পাবনা-শাহজাদপুর-বগুড়া-গাইবান্ধা-রংপুর-নীলফামারী সড়ক মহাসড়কের স্থায়ীত্ব বৃদ্ধিতে লোড পরিমাপের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন ও সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত তদারকী সুনিশ্চিত করা অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।