ঈদ ফ্যাশানে শাহজাদপুরের তাঁতের শাড়ী দেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে!

unnamed

শামছুর রহমান শিশির, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জঃ পবিত্র ঈদের কেনাকাটার শেষ মুহুর্তে বাংলাদেশের তাঁতশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর কাপড়ের হাটসহ পৌরসদরের বিভিন্ন পোশাকের বিপনী বিতানগুলো ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে ঈদ বাজার। ঈদ উপলক্ষে গতকালও উত্তরাঞ্চলের অন্যতম শাহজাদপুর তাঁত কাপড় হাটে রেকর্ড পরিমান দেশীয় তাঁতবস্ত্র বিক্রি হয়েছে। এবারের ঈদের ফ্যাশানে শাহজাদপুরের দৃষ্টিনন্দন,অতুলনীয় তাঁতের শাড়ী দেশব্যাপী সাড়া জাগিয়েছে। তন্মদ্ধে এবার ঈদ ফ্যাশানে সবচেয়ে বেশী সমাদৃত,সুনাম ও প্রসংশা কুড়িয়েছে লুৎফর রহমান লিটন আকন্দের ‘রুনা শাড়ী বিতান’এর জামদানী,বুটিক,সিল্ক,কাটিং,গ্রামীন চেক,লাইট জামদানী।নব্য ফ্যাশানে দেশীয় এসব তাঁতের শাড়ী ক্রয়ের জন্য শাহজাদপুরের হাটবাজারে ব্যাপারী,পাইকার ও ক্রেতাদের ভীড় উপচে পড়ছে।দাম একটু বেশী হলেও দামের চেয়ে সৌন্দর্য ও মান বহুগুন বেশী হওয়ায় ক্রেতারা দেশীয় তাঁতের শাড়ী ক্রয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।

জানা গেছে,পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শাহজাদপুরে দৃষ্টিনন্দন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং আধুনিক রুচিশীল মানুষের উপযোগী তাঁতবস্ত্র ব্যাপক পরিমানে বিক্রি হচ্ছে। তাঁতসমৃদ্ধ শাহজাদপুরে উৎপাদিত তাঁতবস্ত্রের মধ্যে জামদানী ও সূতি জামদানী, সূতি কাতান, চোষা, বেনারশী শাড়িও ব্যাপক পরিমানে বিক্রি হচ্ছে।ঈদ উপলক্ষে ভিন্ন মাত্রায় ভিন্ন সাজে ভিন্ন সৈন্দর্যে তাঁতীরা আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে হৃদয় উজাড় করে দিয়ে ওইসব কাপড়ে করছেন বর্ণিল সুতা,বাটিক ও চুমকির কাজ। এছাড়া, কাপড়ের উপর প্রিন্ট এবং রঙ তুলির আঁচড়ে হাতে করা নান্দনিক ও মনোমুগ্ধকর নানা নকশার শাড়ী ক্রয়ে মহিলা ক্রেতারা ঝুকে পড়েছেন। ফলে ঈদ ফ্যাশানে ইতিমধ্যেই ওইসব তাঁতের শাড়ী ব্যাপক প্রসংশা কুড়িয়েছে ও ইতিমধ্যেই অমিত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শাহজাদপুর কাপড়ের হাটের লাল মিয়া সুপার মার্কেটের ‘রুনা শাড়ী বিতাণ’ পরিদর্শনকালে স্বত্বাধিকারী লুৎফর রহমান লিটন আকন্দ শাহজাদপুর সংবাদকে জানান‘দেশের ও দেশের বাইরের মধ্যবিত্ত পরিবারের কথা মাথায় রেখে তারা অন্যান্য বছরের মতো এবারও বেশকিছু চমকপ্রদ শাড়ী বাজারজাত করছেন । তন্মদ্ধে জামদানী,বুটিক,সিল্ক,কাটিং,গ্রামীন চেক,লাইট জামদানী শাড়ী বিক্রির হিড়িক পড়েছে। ওইসব তাঁতের শাড়ি ইতিমধ্যেই সুনামের সাথে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করায় রেকর্ড পরিমানে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি শাড়ী ডিজাইন ও কারুকাজের ওপর নীর্ভর করে এক হাজার থেকে তিন/চার হাজার টাকা জোড়াপ্রতি বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া শাহজাদপুরের বিভিন্ন খুচরা তাঁতের শাড়ী বিপননকারী শো-রুমে সব ধরনের ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী বিভিন্ন প্রিন্টের শাড়ী ডিজাইন ও প্রকারভেদে তিনশ’ পঞ্চাশ টাকা থেকে নয়শ’ টাকা পর্যন্ত খুচরা হিসাবে বিক্রি হচ্ছে। মিরপুরের জর্জেট শাড়ি প্রকারভেদে সাত থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লুঙ্গী প্রকার ও ডিজাইনভেদে তিনশ’ টাকা থেকে ছয়শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া উপযোগী করে বুনোন শৈলীকে রঙ এর মাধুর্য দিয়ে ঈদ উপলক্ষে তৈরি করা হয়েছে বাহারী ডিজাইনের শাড়ী কাপর। ঈদে ফ্যাশান হিসেবে তরুণীদের অধিক আকর্ষণীয় করে তুলতে বাঙ্গালী নারীকে শাড়িতে যে কত সুন্দর পরিলক্ষিত হতে পারে তার প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে ঈদের বাজারে। ফ্যাশান হাউজ গুলোতে শর্ট ও গ্রীস্মে তরুণীদের সৌন্দর্য্যরে বসন হিসেবে শাড়িকেই বেশি প্রাধন্য দেয়া হচ্ছে । এবারের ঈদ উপলক্ষে রুনা শাড়ী বিতাণের জামদানী,বুটিক,সিল্ক,কাটিং,গ্রামীন চেক,লাইট জামদানীছাড়াও বৈচিত্র, নিলিমা, লিবারটি, প্রত্যাশা, কালো গোলাপ, বাধন,অঙ্গসাজ,হঠাৎরাজা,পূরবী ও স্বর্ণলতা নামের শাড়ি গুলো ক্রয়ে ক্রেতাদের ভীড় উপচে পড়ছে।

তাঁতীরা জানিয়েছে,ঈদে তরুণ-তরুণীদের কথা মাথায় রেখে উৎপাদিত উন্নতমানের সিল্ক,জামদানী নকশা, সেড ও চেক থান কাপড় বেশ আগেই খুচরা বিপনী বিতান গুলোতে সরবরাহ করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে শাহজাপুরের কাপড়ের হাটে জামদানী থ্রী-পিচ ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা এবং চেক থ্রী-পিচ ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিবিআনা, রঙ, কে-ক্রাফট ও নগরদোলা সহ দেশের শীর্ষ স্থানীয় বুটিক প্রতিষ্ঠানের তৈরিকৃত কাপড় বিক্রির হিড়িক পরিলক্ষিত হচ্ছে। বুটিক হাউজ গুলোর নিজস্ব ডিজাইনে রেশম সুতা, খাদি, নয়েল, ডুপিয়ান ও এন্ডি সুতা ব্যবহার করে তাতে প্যালেস ও জরি মিশ্রত করে তৈরিকৃত বাহারী দৃষ্টিনন্দন কাপড় এবারের ঈদ বাজার দখল করে আছে। বুটিক হাউজের ওড়না থান কাপড় ও এন্ডি থান কাপড়ের ফ্রেবিক্স বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। এ কাপড় দিয়ে ঈদের নানা ধরণের পোশাক তৈরি ও বিক্রি করছে বুটিক হাউজ গুলো। ঈদ উপলক্ষে শাহজাদপুরে তৈরিকৃত উন্নতমানের সিল্ক,জামদানী, সুতী কাতান, চোষা, সুতী জামদানী, বেনারশী ও শেট শাড়ির পাশাপাশি মোটা শাড়ি, লুঙ্গী, থ্রী-পিচ ও থান কাপড় বিক্রির হিড়িক পড়েছে। শাহজাদপুর উপজেলার বুলবুল শাড়ী বিতানের ঝিলিক শাড়ী ছাড়াও নতুন মাটির গার্মেন্টস,সিরাজপ্লাজা ও সিরাজ ম্যানসনে দেশীয় ওইসব শাড়ী কাপড়সহ সব ধরনের পোশাক ক্রয়ে ক্রেতাদের ভীড় উপচে পড়ছে।তবে এবার ঈদ ফ্যাশানে শাড়ি পরিধানের ক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থেই অপরূপ সৌন্দর্য মাধুর্য মেলে দেওয়ায় রুণা শাড়ি বিতাণের জামদানী,বুটিক,সিল্ক,কাটিং,গ্রামীন চেক,লাইট জামদানী ব্যাপক সমাদৃত ও প্রসংশিত হয়েছে এবং রেকর্ড পরিমানে বিক্রি হচ্ছে।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.