ঈদান্তে বাসের ছাদে যাত্রীর ঝূঁকিপূর্ণ চলাচল! বর্ধিত ভাড়া দিতে না পারায় ছাদে ওঠার প্রবণতা বাড়ছে

শামছুর রহমান শিশির : পবিত্র ঈদ-উল-আযহা’র পরবর্তীতে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক ও শাহজাদপুর-ঢাকা মহাসড়কে বাস ভাড়া আরেক দফা বেড়েছে। বর্ধিত ভাড়ার অর্থের যোগান দিতে না পেরে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রীদের মধ্যে বাসের ছাদে অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় যাতায়াত করার প্রবণতা বহুলাংশে বেড়েছে। ফলে ওই মহাসড়ক দুটিতে বাসের ছাদে যাত্রীদের ঝূঁকিপূর্ণ চলাচলে সড়ক দুর্ঘটনা আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। সড়ক মহাসড়কে চলাচলকারী স্বল্প পাল্লার ও দুরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া ঈদান্তে বৃদ্ধিতে স্বল্প আয়ের মানুষেরা অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় ছাদের ওপর ঝূঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এদিকে,বাসের ছাদের ওপর চড়ে যাতায়াত নিষেধ হলেও বাধ্য হয়ে কম আয়ের মানুষেরা এ ঝূঁকি নিতে বাধ্য হচ্ছেন। আর বাড়তি আয়ের জন্য বাস কর্তৃপক্ষরাও আইন কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে প্রভাব আর প্রতাপের সাথে বাড়তি আয়ের জন্য যাত্রীদের বাসের ছাদে উঠিয়ে যাতায়াত করছেন। সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত তদারকির অভাবে বর্তমানে বাসের ছাদে ভ্রমনকারী যাত্রীদের সংখ্যা পূর্বের তুলনায় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রীরা বর্তমানে জীবনের ঝূঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। ফলে যে কোন সময় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পতিত হয়ে অনেক যাত্রীর তরতাজা প্রাণ ঝড়ে পড়ার আশংকার সষ্টি হলেও দেখার কেউ নেই। এতে যা ঘটার তাই ঘটছে। ওই দুটি মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা নিত্য দিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
আজ সরেজমিন বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক পরিদর্শন ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদান্তে ঢাকাগামী দুরপাল্লাসহ বিভিন্ন যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি করেছে যানবাহন কর্তৃপক্ষ। ওই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের খেটে খাওয়া মেহনতি স্বল্প আয়ের মানুষেরা বর্ধিত ভাড়া দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সড়ক যোগাযোগে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও এসব হৎদরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের আয় বাড়েনি। ফলে সামর্থনুযায়ী তাদের বাধ্য হয়েই সড়ক মহাসড়কে বাসের ছাদের ওপর ঠাসাঠাসি করে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়ক মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের ছাদের ওপর যাত্রীদের চলাচল অনেক আগেই নিষিদ্ধ করা হলেও সংশ্লিষ্টদের তদারকীর অভাবে যাত্রীদের জীবনকে জিম্মি করে অতি মুনাফালোভী কতিপয় পরিবহন কর্তৃপক্ষ বাড়তি আয়ের জন্য যাত্রীদের বাসের ছাদে উঠে অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলশ্রতিতে যা হবার তাই হচ্ছে। সড়ক মহাসড়কের দু’পাশের বিভিন্ন ডালপালার আঘাতে প্রতিনিয়ত যাত্রীরা আহত হচ্ছেন। স্বল্প আয়ের যাত্রীদের ভাষ্যমতে, ‘আরামে বাসের ভিতরে যাওয়ার টাকা নেই! এজন্য বাসের ছাদের ওপর উঠে চলাচল করতে হচ্ছে। বাসের কনট্রাকটার ও হেলপাররা কম ভাড়ায় আমাদের ছাদে নিতে রাজি হয়েছে। এজন্যই বাসের ছাদের উপরে উঠে চলাচল করছি।’
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে,অভ্যন্তরীণ ও দুরপাল্লার রুটে সড়ক মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসের ছাদের ওপর যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ হলেও সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত তদারকীর অভাবে লাখ লাখ যাত্রীরা ঝূঁকি নিয়ে চলাচল করছে। নিয়মিতই ওই মহাসড়ক দুটিতে ছাদ থেকে পড়ে পেছনে থাকা অপর যানবাহনের চাকার তলে পিষ্ট হয়ে অকালে ঝড়ে পড়ছে তরতাজা প্রাণ। আর যারা ছাদ থেকে পড়ে প্রাণে বেঁচে গেছেন তাদের অনেকেই আবার চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর দিনাতিপাত করছে। বিজ্ঞ মহলের মতে,উত্তরাঞ্চল,দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের সড়ক মহাসড়কে বাসে চলাচলকারী যাত্রীরা দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে যে কোন মুহুর্তে ঝঁড়ে পড়তে পারে এসব যাত্রীর মূল্যবান প্রাণ। এজন্য সড়ক মহাসড়কে বাসের ছাদে উঠে যাতায়াত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করতে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত নজরদারীর কোন বিকল্প নেই। সেইসাথে বাসের ছাদে যাত্রী বহনের মতো সড়ক মহাসড়কের আইন অমান্যকারী বাস কর্তৃপক্ষদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন অতীব জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে। অন্যথায় মজনুর মতো অনেক যাত্রীর তরতাজা প্রাণ ঝড়ে পড়তেই থাকবে।
#