আজ বঙ্গবন্ধুর অত্যান্ত স্নেহষ্পদ এ্যাডঃ আঃ রহমান (এম.সি.এ) এর ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী

এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান এম.সি.এ ১৯৩৮ সালের ১৩ অক্টোবর সিরাজগঞ্জ জেলার হজরত মখদুম শাহদৌল্লা (রহঃ) এবং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত শাহজাদপুরের দক্ষিন সীমা ছুয়ে যাওয়া “ছোট নদী’র লাগোয়া দক্ষিনে দিয়ার দশরথ প্রকাশ্য নাম কান্দাপাড়ায় জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেন্দ্রীয় গবেষণা পরিষদ’ এর প্রধান উপদেষ্টা, ১৯৭০ সালে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য (সিরাজগঞ্জ-৭ আসন) এবং মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

বৃটিশ আমলে বিত্তবান সৎ ব্যবসায়ী পিতাঃ মৃত ওয়াহেদ আলী শেখ পুত্র । আব্দুর রহমান ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে শাহজাদপুর হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেন। উত্তর বঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাকেন্দ্র্র পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পাঠরত অবস্থায় অসুস্থ হলে তাঁর শিক্ষায় ছেদ পরে। নানা মানুষিক অহমিকা অতিক্রম করে সিরাজগঞ্জ কলেজে ভর্তি হয়ে আয়ুবী সামরিক শাসনের সময় বৈষম্যের বিরুদ্ধে পোষ্টার লাগানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় লেখাপড়া আবার বন্ধ হয়ে যায়। ঐ সময়ে তিনি থানা আওয়ামীলীগের নেতা ছিলেন। আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, তাঁত শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ততার মধ্যে পূনঃ সিরাজগঞ্জ কলেজে ভর্তি হন। সে সময়ে তিনি সিরাজগঞ্জ কলেজ ছাত্র সংসদের নেতৃস্থানীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কলেজ শিক্ষা শেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়তে চলে যান।

অর্থনীতির মত উচ্চমানের বিষয়ে লেখাপড়া করার মধ্যেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের নির্বাচিত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অত্যান্ত  ঘনিষ্ঠ ও স্নেহাস্পদ। ১৯৬৬-৬৭ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কারাবন্দী শেখ মুজিব ও ৬ দফার পক্ষে প্রচারের জন্য পশ্চিম পাকিস্থানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সফর করেন। ১৯৬৯’র ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের দায়িত্ব তিনি সফলতার সাথে পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত মুক্তিসংগ্রাম তথা ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের উনসত্তরের ১৮ ফেব্রুয়ারী (১৯৬৯) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রসায়ন বিভাগের রিডার ড. সামসুজ্জোহা পাকি সামরীক বাহিনী বেয়নেট চার্জে নির্মমভাবে নিহত হন।

বঙ্গবন্ধু তাঁকে ১৯৭০’র নির্বাচনে মনোনয়ন দিলে তিনি সিরাজগঞ্জ -৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে মন্ত্রী সভার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। আব্দুর রহমান অর্থনীতিতে অনার্স সহ এম এ পাশ করেন। জাতির জন্য তা সমৃদ্ধ করার জন্য বঙ্গবন্ধু তাঁকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের জন্য বুলগেরীয়ার রাজধানী সোফিয়ায় প্রেরণ করেছিলেন। তিনি শতকরা ৯৮ ভাগ নম্বর পেয়ে সমাজতান্ত্রিক কৃষি অর্থনীতি তিনি ডিগ্রি প্রাপ্ত হন। পরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তাঁকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহা-পরিচালক নিযুক্ত করেছিলেন।
মুক্তি সংগ্রামের মত মুক্তিযুদ্ধের তাঁর অবদান স্মরণ যাগ্য। যুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকার তাঁকে আয়েশী ধরনের কাজের প্রস্তাব দিলে তিনি যুদ্ধের কাজ চেয়ে নেন। সরকারী নির্দেশে জনাব এ,কে খোন্দকার তাঁকে সঙ্গে নিয়ে জলঙ্গী অপারেশন ক্যাম্পের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রেখে আসেন। একই সঙ্গে তাঁকে সেক্টর-৭, সাব সেক্টর-৪, বি-কয় এর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। তিনি বে-সামরীক প্রশাসন পাবনা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পরিষদের প্রচার সাব কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাতির জনক নিহত হওয়ার পর আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগ ও তাঁতশ্রমিক লীগের ৪০ জন নেতাকর্মী সহ তিনি দীর্ঘকাল কারাভোগ পর ১৯৭৯’র ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি মুক্তিলাভ করেন। সে সময়ে সরকারী প্রস্তাব গ্রহন করে দল বদল করলে তিনি অনেক আগেই উচ্চপদসহ মুক্তি পেতেন। সেই সময়ের এন এস আই এর নথিপত্রে এর সত্যতা মিলবে। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র, ৩ কন্যাসহ প্রধানতঃ পূর্বপুরুষের সম্পদের উপরই তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জীবন যাপন করে গেছেন।। জীবিত থাকা অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কিম্বা অন্যকোন ধরনের সম্মানী ভাতা, বা সাহায্য সহায়তা গ্রহন করেননি। তিনি বলতেন,আমার দেশ প্রেম বিক্রয়যোগ্য নয়। তিনি মনে করেন, প্রকৃত মুক্তিসংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধা যেহেতু দেশের জন্য জীবনদান স্বীকার করেই জীবন শুরু করেছেন সেই জন্য তাঁদের পক্ষে অঢেল অর্থ সম্পদ অর্জন, এমনকি তা সৎ পথে হলেও শহীদ,মৃত লাঞ্ছিত মা-বোন, নির্যাতিত রাজনৈতিক কর্মী ও মানবতার প্রতি অ-মানবিক ও চরম নিষ্ঠুরতা।

অতঃপর ২০১৩ ইং সালের ২৬ ডিসেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা ৩৭ মিনিটে মৃত্যু বরণ করেন।আজ শনিবার (২৬ ডিসেম্বর)  বঙ্গবন্ধুর অত্যান্ত স্নেহষ্পদ শাহজাদপুরের এই কৃতি সন্তানের ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী। আঃ রহমান এমসিএ এর কনিষ্ট পুত্র শেখ কাজল জানান মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।এছারা বিকেলে উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা ও দেয়া মাহফিলের হবে।তিনি আরো জানান গুনী ত্যাগী এই নেতার মৃত্যুবার্ষীকিতে তার জন্য দলের পক্ষ থেকে কোন কর্মসুচী গ্রহন করা হয়না