আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক দর্শণ

* বঙ্গবন্ধু প্রেমিক সেজে যারা আওয়ামীলীগের দর্শণ লালন পালনের তত্ব কথায় যারা গদ গদ হন, তাদের বক্তব্য শুনে হাসি পায়। এদের অনেকেই জানেন না, আওয়ামীলীগ রাজনীতি তথা বঙ্গবন্ধুর দর্শণ কি ছিল?

* আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাংগালি জাতিয় চেতনাবোধের ঐক্য প্রতিষ্ঠা,মুক্তি ও স্বাধীনত্বার সংগ্রাম, পরবর্তী মুক্তির জন্য স্বাধীনত্বা যুদ্ধ এক সাগর রক্ত এবং ৩০ লাখ মানুষের আত্মবলিদান ও ২ লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত সতন্ত্র লাল সবুজের পতাকা,স্বাধীন মানচিত্র প্রাপ্তি পর্যন্ত আওয়ামীলীগ রাজনীতির মূল দর্শণের ধারায় ছিল। এ বক্তব্যের স্বপক্ষে ও সত্যতা প্রমানে ইতিহাসের সাক্ষ্যই যথেষ্ট বলে বিবেচিত।

* স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহন পরবর্তী আওয়ামীলীগ নেতৃত্ব রাজনীতির মূলধারা বা দর্শণের পথে হাটতে পারেনি। যার প্রমান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই আওয়ামীলীগ বিলুপ্তি করনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ (বাকশাল) গঠন করেছিলে।

* এ সম্পর্কে উনিশশো পঁচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধুর জাতীয় সংসদে বক্তব্য দানকালে একটি অসাধারণ সংশয়োক্তি পেশ করে বলেছিলেন—

* ‘আওয়ামী লীগ একটি মাল্টিক্লাস পার্টি। আমি তার নামের আগে কৃষক শ্রমিক লাগিয়েছি বৈকি, কিন্তু দলটির চরিত্র এখনও বদলাতে পারিনি, রাতারাতি তা সম্ভবও নয়। আমার দলে নব্যধনীরাও আছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় তাদের লুটপাটের সুযোগ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

* আমি তাদের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যই বাকশাল করেছি। যদি এই ব্যবস্থা সফল করতে ব্যর্থ হই এবং আমার মৃত্যু ঘটে, তাহলে দলকে কব্জা করে ওরা আরও লুটপাটে উন্মত্ত হয়ে উঠতে পারে। এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশের মূলমন্ত্রে শত্রুপক্ষের নীতি ও চরিত্র অনুসরণ করে আওয়ামী লীগেরও চরিত্র ও নীতি পাল্টে ফেলতে পারে।

* যদি তা হয়, সেটাই হবে আমার দ্বিতীয় মৃত্যু। সেজন্য আগেই বলেছি, আমার দল, আমার অনুসারীদের হাতেই যদি আমার এই দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটে, তাহলে দীর্ঘকালের জন্য বিস্মৃতির অন্ধকারে চলে যেতে হবে। কবে ফিরব তা জানি না।’

* তিনি ১৯৭৫ সালের ১৯ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন : ” বিপ্লব কাকে বলা হয় ? পুরানো রীতি,যেটা দেশের মঙ্গল করে না সেই রীতি বদলানোর মত সৎসাহস থাকা প্রয়োজন, পুরানো আইন, যে আইন দেশের মঙ্গল করে না সেই আইনের পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করার অধিকার জনগণের রয়েছে । উপনিবেশবাদীরা দেশকে শোষণ করার জন্য যে সিস্টেম দেশের অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মধ্যে চালু করে গিয়েছিল, সেই অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সেই সিস্টেম, সেই আইন, সেই সব কিছু
পরিবর্তন করার নামই বিপ্লব ।

* ঘুণে ধরা এই শাসনব্যবস্থাকে ভেঙ্গে চুরমার আমি করতে চাই । বর্তমানে ঘুণে ধরা বিচার-পদ্ধতিকে ভেঙে-চুরে জনগণ যাতে তাড়াতাড়ি বিচার পায়, সে রকম ব্যবস্থা আমি নতুন করে করতে চাই । আমার এই নতুন সিস্টেমই একটা বিপ্লব । ব্রিটিশ আমলের সেই ঘুণে ধরা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সিস্টেম দিয়ে বাংলার মানুষের মঙ্গল হতে পারে না । ইট মাস্ট গো ।

* আই ওয়ান্ট মাই আর্মি এ পিপলস আর্মি । আই ডু নট ওয়ান্ট মাই আর্মি টু ফাইট এগেইনস্ট অ্যানি-বডি, বাট আই ওয়ান্ট মাই আর্মি টু ডিফেন্ড মাই সেলফ,
অ্যান্ড অ্যাট দ্য সেম টাইম টু ওয়ার্ক । ”

* এ কারনেই আওয়ামীলীগ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা পকিস্তানপন্থী স্বাধীনত্বা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতির পথে আপামর জনগনের মুক্তি বিরোধী প্রতিক্রীয়াশীলদের চক্রান্তের শিকার হন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট নির্মম ভাবে স্বপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির জনককে। ইতিহাসের এ নিষ্ঠুর বর্বরতা আমাদেরকে কি শিক্ষা দেয়?

* রাজনীতিতে এখনো প্রগতিশীলদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রীয়াশীলরা ধারাবাহিক ভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিদ্যমান। জনগনের মুক্তির পথে অন্তরায়।

* বর্তমানে আওয়ামীলীগের যে ধারাটি বিদ্যমান সেখানে প্রগতিশীল প্রতিক্রীয়াশীল মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইব্রীড বা শংকর ধারা। এরা আওয়ামীলীগের শোষণ মুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ধারা বর্তিকার দল নয়।

* যদিও বঙ্গবন্ধু কন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা এ দলের নেত্রীত্ব দিচ্ছেন কিন্তু তিনিও বঙ্গবন্ধুর মত শত্রু বেষ্টীত। বার বার তাঁর ওপর জীবন নাশের হামলা সেটাই প্রমান করে। তবে তিনি বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেমের ওপর জনগণের আস্থা এবং প্রকৃত দেশ প্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের সমথর্নে এখনো টিকে আছেন।

* তিনি না প্রগতিশীল না প্রতিক্রীয়াশীল এমন মধ্যপন্থা অবলম্বনে রাষ্ট্র শাসনে টিকে আছেন। তবে দেশের ধর্মীয় উগ্রপন্থি চরম প্রতিক্রীয়াশীলরা এবং তার সাথে প্রতিক্রীয়াশীলরা এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যা পরবর্তী হত্যাকান্ডে সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠিত দল ও নিজেদের প্রতিপালনে সামরিক জান্তা এবং অন্যান্য কূচক্রী মহলের নানা অশুভ তৎপরতা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলছে।

* আন্তর্জাতিক কর্পোরেট রাজনীতির রোশানলে শেখ হাসিনা। তারা মধ্যপন্থী এ ধারাকে উচ্ছেদ করে চরমপন্থী উগ্রবাদের ধারা বর্তিকায় তাদের বানিজ্যিক স্বার্থে তাদের সমর্থিত সরকার বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে তৎপর। যেমনটি ভারতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ বিষয়ে দেশবাসীকে স্বচেতন হবে।

* বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের মূল ধারার ইতিহাসে পরিবর্তন আনার জন্য পাকিস্তানপন্থী প্রতিক্রীয়াশীল প্রতিবিপ্লবীদের অশুভ চক্রান্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পর থেকেই ছিল, এ তৎপরতা এখনও বিদ্যমান। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সরকারের শাসনামলে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই বাছাইয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে হচ্ছে।

* এই ধারাবাহিকতায় তাদের সমর্থক,স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার,আলবদর, আলসামস্ সহ সুবিধাভোগী বিতর্কীত ব্যক্তি, এমপি, মন্ত্রী, এমনকি মিথ্যা তথ্যে সরকারি আমলাদের বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

* এ ধারার চূড়ান্ত সমাপ্তী করনের সর্বশেষ প্রচেষ্টা হলো মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই-২০১৭। নয় কোড বারের সতর্কীকরণ ডিজিট্যাল সনদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার স্বাক্ষরে প্রদান করেই মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রণয়নের কাজটি সম্পন্ন করতে চায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী চক্রটি।

* মুক্তিযুদ্ধের মূল উপাদান মুক্তিযোদ্ধাদের এই তালিকাটি সংখ্যা গরিষ্ঠ ভুয়া ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করে তাদের সনদ দিতে পারলেই তাদের ষোল কলা পূর্ণ হবে। ইতিহাস কলঙ্কিত হবে। মানুষ বিতশ্রদ্ধ হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিতর্কীত হবে। তাহলেই প্রতিক্রীয়াশীল প্রতিবিপ্লবীরা জিতে যাবে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধারা হেরে যাবে। ষঢ়যন্ত্র থেমে নেই, ষঢ়যন্ত্র চলছে।

* মুক্তিযোদ্ধাদের আর কি করার আছে। পিছনের কাতারে থেকেতো আর যুদ্ধ করা যায়না। যুদ্ধ করতে হলে সন্মুখে থাকতে হয়। সেই যে ১৯৭২ সালে প্রতিক্রীয়াশীল সুবিধাভোগীরা মুক্তিযোদ্ধাদের পিছনে ঠেলে দিয়েছে, মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। আজও মুক্তিযোদ্ধারা মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি।

♦-আবুল বাশার-♦
প্রধান সম্পাদক
শাহজাদপুর সংবাদ ডট কম
তাং-২৯/০৯/২০১৭ ইং
শুক্রবার, বিকেল ৩ টা ৪৫ মিনিট।