‘আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও উন্নয়নে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ’- আইন সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অনেক রক্তের বিনিময়ে এদেশের স্বাধীনতা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী, সফল রাষ্ট্রনায়ক, দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও উন্নয়নে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।’ সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতির ১৩৭ বর্ষপূর্তি উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন । সাতকানিয়া কাচারি মাঠে আয়োজিত ওই সমাবেশে এডভোকেট সুনীল বড়ুয়া সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দীন হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও পিপি আ ক ম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, পৌর মেয়র মোঃ জুবায়ের, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্যাহ, সাতকানিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আবদুর রকিব চৌধুরী ও উৎসব উদযাপন পরিষদ সচিব এডভোকেট মিনহাজুল আবরার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন সচিব আরো বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর নির্ভর করে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। এ চেতনাকে লালনকারী একজন শিক্ষিত ব্যক্তি কখনও সাম্প্রদায়িক হতে পারে না। দেখা যাচ্ছে, বিচার বিভাগে সাম্প্রদায়িক চেতনা লালনকারী ব্যক্তিদের প্রবেশ হচ্ছে। তারা যাতে বিচার বিভাগে আসতে না পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, আইনের শাসন কায়েমের নিমিত্তে প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণ করার লক্ষ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় ৭৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী চৌকি কোর্টের উন্নয়নের জন্য ১০ কোটি টাকা তাঁর তহবিল থেকে বরাদ্দ দিয়েছেন। একজন আইনজীবীর নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের সেবা পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য সরকার নির্যাতিত ও অসহায়দের আইনি সেবা বিনামূল্যে দেয়ার জন্য লিগ্যাল এইড গঠন করেছেন।’ প্রধান অতিথি সাতকানিয়া আদালত ভবন নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করার জন্য ৫০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাতকানিয়া আদালতের উন্নয়নের দায়িত্ব যাদের ছিল তারা আদালতের প্রতি খেয়াল রাখেননি। আমরা এখনও উন্নয়নের ট্রেনে উঠতে পারেনি। জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য জনগণকে ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণ আলাদা বিচার বিভাগ করায় সুফল ভোগ করতে শুরু করেছে। এজন্য সাতকানিয়ায় পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি আদালত চালু এখন সময়ের দাবি। এ সরকারের উন্নয়নের গতিকে আরো বেগবান করার জন্য বর্তমান সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করতে হবে।
এছাড়া সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপসচিব মো. মাহবুবর রহমান সরকার এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা ও দায়রা জজ হ্লা মং। সমাবেশে এলাকার আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী, সাংবাদিক ও গুণিজনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপসি’ত ছিলেন। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে গুণিজন ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।