আঃ লীগের কমিটিতে ঢুকতে মুখিয়ে তারা!   

পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ। অবশেষে এটাই প্রমাণ হল যে, দেশের দুর্দিনে রাজনীতিবিদেই ভরসা বেশি। ত্রাণের তালিকা তৈরিতেও দেখা গেছে যে, যারা আমলাগন আখেরে রাজনীতিবিদগণেরই সহায়তা নিতে বাধ্য হয়েছেন। তারা জবরদস্তি করে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়েছে। কারণ সরকারী কর্মীরা কর্তাগন কেউই গ্রামের সাধারণ মানুষের হাল হকিকত জানেন না। তাই সেই ‘পাছায় লাথি’ ফর্মুলায় ২/৩ দিনের মধ্যে অনেক তথ্য দিয়ে তালিকা করাতে বাধ্য করেছেন। এতে কিছু ভুল ত্রুটিও হয়েছে, দুই একজন পলিটি খাওয়া, পদ বা নমিনেশন বাণিজ্যে জনপ্রতিনিধি হওয়ারা চুরি করে ধরাও পড়েছে বেশ কিছু। এখন চলছে লিক ডাউন, সেই ক্ষেত্রেও শহরের মহল্লার দেখভাল করার দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে জনপ্রতিনিধি রাজনীতিবিদদের উপর।

এদিকে একটি জনপ্রিয় পোর্টালে খবর বেরিয়েছে যে, দলের অনেকটা স্থবিরতার ভাব কাটাতে আওয়ামী লীগের যে সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন হয়ে শুধু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখন পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন বা ঘোষণা করা হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কম দেখা যাচ্ছে এবং এই সংকটকালে যে দল সাংগঠনিকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবে, সেই কর্মকাণ্ডেও ভাটার টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর এই বাস্তবতায় দলের শীর্ষ নেতারা, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন বিশেষ করে ঢাকা মহানগরের কমিটিগুলো ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। করোনা সংকট মোকাবিলায় ব্যস্ত থাকায় কমিটি গঠনে বিলম্ব হলেও বর্তমান বাস্তবতায় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের  পূর্ণাঙ্গ কমিটি আর তা থানা, ওয়ার্ড ও মহল্লা পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পারলে দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারী কাজে অনেক সহায়তা পাওয়া যাবে। কারণ সরকারী চাকুরেদের জনবিচ্ছিন্নতার কারণে তারা মাঝে মাঝে ভুল লোকের মধ্যে সরকারী জরুরী সেবা দিতে গিয়ে বড় বড় ভুল করে বসেন যার দায় সরকারের ঘাড়েই গিয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক নগর ও থানা-মহল্লা পর্যায়ের নেতারা বলেছেন যে, নগরীর বিভিন্ন থানা আর মহল্লায় চরম চাঞ্চল্য লক্ষ করা গেছে। থানা বা ওয়ার্ড বা মহল্লা কমিটিতে একটা ছোটখাটো পদ পাবার জন্য অর্থাৎ পদ বাণিজ্যের জন্য টাকার বান্ডিল নিয়ে ঘুরছেন বিএনপি, জামায়াত ঘরানার একদল নব্য ব্যবসায়ী টাকার কুমীরেরা। কারণ একটা ছোটখাটো পদ পেলেই তা ব্যবহার করে টাকার পাহাড় তৈরি করা যাবে বিভিন্ন অফিসে ঠিকাদারি, সরবরাহ ব্যবসা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, সফটওয়ার তৈরি, ইত্যাদিতে।

ত্যাগী আওয়ামী লীগের নগর ও থানা-মহল্লা পর্যায়ের নেতা-কর্মী- সমর্থকগন আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন যে, বলেছেন যে কারণে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের পদ ও কমিটি বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি অনেকটা ক্ষুণ্ণ হয়েছে সেটার পুনরাবৃত্তি হলে মহা বিপর্যয় হতে পারে। তাই কমিটি করার পরেও কারো বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের প্রমাণিত অভিযোগ এতে তাকে সাথে সাথেই বহিষ্কারের অপশন রেখে কমিটি করা দরকার। নিকট অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই এটা করা জরুরি। এটা মনে রাখা জরুরী যে, বিভিন্ন দলের ছদ্মবেশীরা আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পদ পেতে চার হাত পা তুলে মুখিয়ে আছে।

এখানে মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.