আঁধারে ফোটে ফুল,আলোতে হয় ফল!

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক বিষ্ময়কর ফল ও ফুলের নাম হচ্ছে চালতা। বহুবিধ ভেষজ ঔসধিগুনসম্পন্ন ওই চালতা ফল ও ফুলের বিকাশ ও পরিপূর্ণতা বড়ই বৈচিত্রময়। এমন ফল বড়ই দূরহ যাতে প্রথমে ফল, পরে ফুল ও পূনরায় ফলে পরিণত হয়। চালতা ফুল দেখতে বড়ই দৃষ্টিনন্দন যা নিজে চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হবে না ! এর ফল বহুবিধ ঔসধিগুনসম্পন্ন হলেও মূলত এর আচার আমাদের দেশের নারীদের জন্য দুঃ®প্রাপ্য, লোভনীয় ও মুখরোচক খাবার হিসাবে ব্যাপক সমাদৃত। কিন্তু কালের আবর্তে অতি পরিচিত চালতা ফল বর্তমানে বিলুপ্তির পথে।
জানা গেছে , চালতার গাছে বছরে একবারই ফল ধরে। প্রতিটি চালতা ফল ২৫০ থেকে প্রায় ৫০০ গ্রাম ওজন হয়। চালতা গাছে প্রথমে ফল ধরে। ফলের আকার যখন ডিমবল আকৃতি ধারন করে তখন ওই ফলের মধ্য থেকে ফুল ফোটে। চালতার ফুল সাধারণত রাতে ফোটে । ফুল ফোটার পর ওই ফুলটিতে মৌমাছি বসা শুরু করে। অতি আশ্চার্যের বিষয় হলো রাতে ফুল ফোটার পর পরদিন বেলা বাড়ার সাথে সাথে ফুলের পাপড়ি নিস্তেজ হয়ে ঝড়ে পড়ে। একটি ফলে একদিনের জন্যই পরিপূর্ণ একটি ফুল ফুটে ঝড়ে যায়। চালতার ফুল ফোটার পরে ফুলে মৌমাছির আগমন ঘটতে থাকে। মৌমাছিরা চালতার ফুল থেকে মধু আহরণ করতে গিয়ে একফুল থেকে অন্য ফুলে বসে। এভাবেই চালতার পরাগায়ন ঘটে এবং ধীরে ধীরে সেটি একটি পরিপূর্ণ ফলে পরিণত হয়। সাধারনত ফলটি পাকার আগেই গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। কাঁচা চালতার ফল দিয়ে মুখরোচক আচার তৈরি করা হয় যা সর্বজনের নিকট ব্যাপক সমাদৃত। চালতা ফলের ভিতরের আঠালো জাতীয় যে অংশ ফেলে দিতে হয় তা দিয়ে ঘুড়ি উড়ানো সূতা টেকসই করার কাজে ব্যাবহার করা হয়। বিশেষত ঢাকায় ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগীতায় প্রতিযোগী-প্রতিযোগিনীরা কাচের গুড়ার সাথে ওই আঠালো জাতীয় পদার্থ মিশিয়ে সূতায় মাঞ্জা দিয়ে থাকে সূতাকে টেকসই ও ধারালো করার জন্য। শাহজাদপুর সরকারি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জানান,আমাদের দেশে সাধারণত দুই প্রজাতির চালতা ফল দেখা যায়। এটি বহুবিধ ভেষজ ঔষধিগুণসম্পন্ন একটি ফল।

মন্তব্য