অপহরণের ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশের তৎপরতায় ৪ চাঁদাবাজ গ্রেফতার; ব্যাবসায়ী উদ্ধার

শামছুর রহমান শিশির: শাহজাদপুরে মাছ ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর ২৪ ঘন্টার মধ্যে থানার অফিসার ইনচার্জ মো: খাজা গোলাম কিবরিয়ার নির্দেশনা ও বুদ্ধিমত্তায় একদল পুলিশ ওই মৎস্য ব্যবসায়ী (ভিকটিম) কে উদ্ধার ও সেইসাথে অভিনব কৌশলে ঘটনার সাথে জড়িত ৪ চাঁদাবাজকেও গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছে । অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে ভিকটিমকে সুস্থ্য ও স্বাভাবিকভাবে ফিরে পেয়ে ভিকটিমের স্বজনেরা থানা পুলিশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ভিকটিমকে তার স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ৪ চাঁদাবাজকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
শাহজাদপুর থানা পুলিশ ও ওই মৎস ব্যবসায়ীর আত্মীয়-স্বজন সূত্রে জানা গেছে, ‘ পাবনা জেলাসদরের গোপিনাথপুর মহল্লার মৃত হাশেম আলীর ছেলে মাছ ব্যবসায়ী আসলাম মোল্লা গত মঙ্গলবার সকালে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের শাহজাদপুর দিলরূবা বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন মৎস্য আড়তে মাছ ক্রয়ের জন্য আসলে কতিপয় চাঁদাবাজ কৌশলে ওই ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে মাছ ব্যবসায়ীর স্বজনদের কাছে তাকে ফেরত দেয়ার শর্তে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। বিষয়টি জানার পর ভিকটিম আসলামের ভাই রমজান আলী বাদী হয়ে গতকাল বুধবার ভোররাতে শাহজাদপুর থানায় একটি চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেন। পরে থানার অফিসার ইনচার্জ মো: খাজা গোলাম কিবরিয়ার নির্দেশনায় বাদী মোবাইল ফোনে বিকাশের মাধ্যমে দাবীকৃত ২ লাখ টাকা চাঁদার স্থলে দরকষাকষি করে ১ লাখ টাকায় চাঁদাবাজদের রাজি করেন। এক পর্যায়ে গতকাল বুধবার চাঁদাবাজেরা উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা বাজারের হৃদয় টেলিকমের বিকাশ নাম্বারে রফাকৃত ১ লাখ টাকা বিকাশে পাঠাতে বললে থানার অফিসার ইনচার্জ মো: খাজা গোলাম কিবরিয়ার নির্দেশনায় এসআই জাহিদুল,এসআই আব্দুল মতিন, এএসআই সাইফুল, এএসআই ফিরোজ সঙ্গীয় ফোর্সসহ জামিরতা বাজারে পৌঁছে ভিকটিমকে সুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার করে ও ঘটনার সাথে জড়িত ৪ চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ৪ চাঁদাবাজ হলেন, পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার ধুলান মহল্লার ঠান্টুর ছেলে চাঁদাবাজ হামিদুল (২২), শাহজাদপুর উপজেলার জামিরতা জোতপাড়া মহল্লার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে চাঁদাবাজ সামসুল (৩০), মৃত জানে আলমের ছেলে চাঁদাবাজ আব্দুল আলীম (৩৬) ও মৃত মজিদ ব্যাপারীর ছেলে অপর চাঁদাবাজ শামীম (৩০) কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: খাজা গোলাম কিবরিয়া জানান,‘সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্বা নিশ্চিত ও কাঙ্খিত সেবা প্রদানই আমাদের কাজ। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’ অপরদিকে, মাছ ব্যবসায়ী আসলামের ভাই মামলার বাদী রমজান আলী জানান, ‘ যখনই আমার ভাইকে ফেরত দেয়ার জন্য ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করা হয়েছিলো, তখনই ভেবেছিলাম ভাইকে সুস্থ্য অবস্থায় ফেরত পাবো কি না ? শাহজাদপুর থানা পুলিশ মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমার ভাইকে উদ্ধার করে নি:সন্দেহে বিরল ভূমিকা পালন করলো ও বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমর্যাদা আরও সমুজ্জ্বল করলো। এমন সেবা যদি দেশের সকল মানুষেরা পেতো তাহলে দেশ থেকে অপরাধই পালিয়ে যেতো।’ পক্ষান্তরে, বিজ্ঞমহলের মতে,‘মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে চাঁদার দাবীতে আটকে রাখা ভিকটিমকে সুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতার করে শাহজাদপুর থানা পুলিশ যে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছে তা নি:সন্দেহে প্রসংশার দাবিদার।