‘অতীতে বঙ্গবন্ধুর নামে; এখন প্রধানমন্ত্রীর অবদানে ক্রিকেটের টাইগার হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্ববাসী চিনেছে’ – সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম

শামছুর রহমান শিশির, শাহজাদপুর থেকে : ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর নামে বিশ্ববাসী চিনতো। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের রাষ্ট্রনায়ক, দেশরত্ন শেখ হাসিনার আমলে ও তাঁর অবদানে ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি, ‘বাংলার টাইগার’ হিসেবে আমাদের মাতৃভূমিকে বিশ্ববাসী চেনে ও জানে। ক্রিকেট খেলোয়ারদের ও সার্বিক ক্রিকেট খেলার মানোন্নয়নের ওই অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর সূক্ষ পরিচালনা, সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা, প্রেরণকৃত উৎসাহ উদ্দীপনা নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য। প্রধানমন্ত্রীর সৃদৃঢ় হস্তক্ষেপেই বাংলাদেশের টেষ্ট ক্রিকেট স্ট্যাটাস অর্জনসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিমন্ডলে দেশের দামাল ক্রিকেটাররা বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গণের শাষকদেরও ধরাশায়ী করছে।’ গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯ টায় শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের নরিনা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইয়াং স্টারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রথমবারের মতো ৮ দলীয় ডে-নাইট ফাইনাল ম্যাচের প্রধান অতিথি হিসেবে উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন সিরাজগঞ্জ-০৬ (শাহজাদপুর) আসনের সাবেক এমপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলাম। এ সময় তিনি আরও বলেন,‘রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার শাষণামলে নরিনা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনটি উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারিত, মাদরাসার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নরিনা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মান, উপজেলার টেটিয়ারকান্দা গ্রামের মতো উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও সম্প্রসারিত হয়েছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে পৌরসদরের সাথে নরিনা গ্রামের সড়ক যোগাযোগ কাঁচা ছিলো যা আমি এমপি থাকাকালীন পাকা ও সম্প্রসারিত হয়েছে। করতোয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ সমাপ্ত প্রায়। যে কোন সময় সেতুটি উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়-বাংলাদেশ’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ইতিমধ্যেই ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি অত্র এলাকার আর্থ-সামাজিক, শিক্ষা, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের যে ধারা অব্যাহত রেখেছেন তার ধারাবাহিকতা রক্ষা ও ত্বরান্বিত করার গুরুদায়িত্বটা ঠিক তেমনি আমাদের ওপর অর্পিত হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে যিনিই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হবেন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে বিজয়ী করে আমরাও জানান দিতে চাই, ‘শাহজাদপুরের মাটি-শেখ হাসিনা’র ঘাঁটি’।’
নরিনা ইউপি চেয়ারম্যান ফললুল হক (মন্ত্রী)’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনাল খেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার, নরিনা ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি শ্রী নরেশ চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার, জামিরতা ডিগ্রি কলেজের উপাধাক্ষ্য আব্দুল বাছেত, কৈজুরী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা মীর আব্দুস সবুর খান, ইউপি সদস্য মোকছেদ আলী, নরিনা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা প্রমূখ। নরিনা করতোয়া ক্লাব ও নরিনা সেবা সংঘের মধ্যে ডে-নাইট ফাইনাল খেলায় নরিনা করতোয়া ক্লাব নির্ধারিত ১৪ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রান সংগ্রহ করে। অন্যদিকে, নরিনা সেবা সংঘ ১২.৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। খেলায় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন মীর আসাদুল ইসলাম পিন্টু ও শুশান্ত রায়। পরে অতিথিবৃন্দ নরিনা সেবা সংঘের অধিনায়কের হাতে বিজয়ী দলের পুরষ্কার হিসেবে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন ও নরিনা করতোয়া ক্লাবের দলীয় অধিনায়কের হাতে বিজীত দলের পুরষ্কার হিসেবে ২৪ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন তুলে দেন। উক্ত ডে-নাইট খেলায় প্রায় ৪ হাজার ক্রিকেটপ্রেমি দর্শকের সমাগম ঘটে।